মি. শরীফ ৩


 মি. শরীফ ৩
অফিসে দীর্ঘ তিন ঘন্টা কাজ করার পর আধা ঘন্টা বিশ্রাম করতে চাইলেন শরিফ সাহেব । এক সহকর্মীকে বলে অফিস থেকে বের হলেন । রাস্তার ওপারেই ভুতের আড্ডা রেস্টুরেন্ট । আগে কখনো এই রেস্টুরেন্টে তিনি যাননি । তাই আজ যাওয়ার মনস্থ করলেন । তিনি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে ভাবলেন , এই বুঝি রাত হয়ে গেল । চারিদিকে ঘন অন্ধকার । শুনশান নিরবতা । তিনি হাতড়িয়ে একটি চেয়ারে বসলেন । কিন্তু খাবার কাকে অর্ডার দিবেন , তা ভাবতে লাগলেন । আর অন্ধকারে কীভাবে খাবেন তা চিন্তা করতে লাগলেন । এমন সময় পূর্ব দিক থেকে একটি সরু আলো বের হয়ে আসলো । কে ওটা নিয়ে আসছে বুঝতে পারছেন না । একটু পরে অনুভব করলেন তার পায়ে কি যেন বারবার খোঁচা দিচ্ছে । শরিফ সাহেব ভয়ে কাঁপতে লাগলেন । তখন ভাবলেন , চেয়ার থেকে উঠে একটা দৌড় মারবেন । যেই চেয়ার থেকে উঠতে যাবেন , অমনি কেউ যেন তার কোমর জড়িয়ে ধরলো । শরিফ সাহেবের ভয়ে দাঁতে দাঁত বাঁড়ি খাচ্ছে । একটু পর সেই আলোটা শরিফ সাহেবের দুই হাত সামনে এলো । আর তখন দেখতে পেলেন আলোর পিছনে একটা আবছা আবছা মুখ দেখা যাচ্ছে । তার চেহারাটা ঠাকুরমার ঝুলি শাকচুন্নির মতো । একটু পর কোথা থেকে যেন অনেক গুলো হাসির আওয়াজ শুনতে পেলেন । এত আতঙ্কের মধ্যে শরিফ সাহেব আর স্থির থাকতে পারলেন না । শাকচুন্নিটা যেই সামনে আসলো, অমনি শরিফ সাহেব এক পলকে লাফ দিয়ে তার সামনে গিয়ে শরীরের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে একটা থাপ্পর মারলেন । বেচারা শাকচুন্নি এ রাম থাপ্পড় খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল । শরিফ সাহেব তখন চেয়ারটা পূর্বদিকে আরেকটা আগুন বরাবর নিক্ষেপ করলেন । অমনি "ও মাগো " বলে পলায়ন করলো । আর অমনি আগুনটা পর্দায় লেগে গেল । অমনি পর্দায় আগুন ধরে গেল । তিনি আগুনের স্পষ্ট দেখতে পেলেন , আরো তিনটা ভূত দৌড়ে আসছে । অমনি টেবিল থেকে তিনটা ক্লাস নিয়ে তাদের মাথা বরাবর নিক্ষেপ করলেন । তারা মাথায় হাত দিয়ে পলায়ন করলো । এদিকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে । শরিফ সাহেব আগুনের আলোতে বের হওয়ার রাস্তা দেখতে পেলেন । তিনি বিলম্ব না করে বের হয়ে গেলেন ।
পরেরদিন পত্রিকায় নিউজ , "শহরের ভূতের আড্ডা রেস্টুরেন্ট এ এক আতঙ্কিত ব্যক্তির হামলায় দুইজন নিহত আর তিনজন আহত ।"
( সংরক্ষিত ) 
মিস্টার শরীফের দ্বিতীয় পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !