খুদে বিড়ালী
লেখক , আব্দুর রহমান আল হাসান
বাহিরে প্রচন্ড ঝড় বইছে । খবরে বলা হয়েছিল, এরকম তুফান বাংলাদেশে এই প্রথম । বাতাস যেন আর বৃষ্টির মধ্যে ফুটবল খেলছে ।কখনো বাতাসকে বড় বড় ইট উড়িয়ে নিয়ে যেতে দেখেনি অরিন । জানালা দিয়ে দেখলো , তাদের উঠানের নতুন ঘর বানানোর জন্য জমা করে রাখা ইটের স্তূপ থেকে ১০-১৫ টা ইট বাতাসে উড়াউড়ি করছে । অরিনের বাবা খুব ভয় পাচ্ছেন । যদি ঝড় তাদের টিনের ঘরটা উড়িয়ে নিয়ে যায় । অরিনের মা নামাজে দাড়িয়ে গিয়েছেন । বাবা তসবি জপে বিপদ থেকে মুক্তির দোয়া পড়ছেন । অরিন হঠাৎ দেখতে পেল , তাদের ইটের স্তূপের পাশে একটা ছোট্ট বিড়ালের বাচ্চা জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে । এতক্ষণ হয়তো সেই বৃষ্টিতে ভিজেছিল । অরিন তখন চাইলো , বিড়ালটাকে ঘরে নিয়ে আসতে । কিন্তু কিভাবে আনবে । বাবা তো এমন পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বের হতে দিবেন না । তারপরও ভাবলো , কিছু একটা করতে হবে । শেষে চুপচাপ বাথরুমে যাবার কথা বলে ঘরের দরজা খুলে বের হল । গ্রামাঞ্চল হওয়ায় তাদের টয়লেট ছিল ঘরের বাইরে । সে বাহিরে যাওয়ার সময় তার বাবার বড় ছাতাটি নিয়ে বের হলো । বাতাসের তোড়ে ছাতাটি বারবার হেলেদুলে যাচ্ছিলো । অবশেষে বিড়ালের সামনে এসে তাকে কোলে তুলে নিলো । বিড়ালটি যেন জানতো , কেউ একজন তাকে এসে উদ্ধার করবে । সে বিড়ালের বাচ্চাটি ঘরে নিয়ে আসলো । অরিনের বাবা বিড়াল দেখে জিজ্ঞাসা করলেন , ঘরে বিড়াল এসেছে কিভাবে ?
অরিন বলল , বাহিরে বিড়ালের বাচ্চাটি বৃষ্টিতে ভিজেছিল । তাই তাকে আমি ঘরে নিয়ে এসেছি । অরিনের বাবা মেয়েটির প্রাণীদের উপর মমতা দেখে খুবই খুশি হলেন । তিনি বিড়ালটির শরীর মুছে দিয়ে একটি পুরানো কম্বল দিয়ে তাকে ঢেকে দিলেন । বিড়ালটি উষ্ণতা পেয়ে গভীর ঘুমে হারিয়ে গেল ।
( লেখক কতৃক সংরক্ষিত )
