পর্ব ৩
শীতের সকাল ডট ব্লগস্পট ডট কম .......
নুহাশপুর গ্রামে আসতে আসতে বিকাল গড়িয়ে গেল । গ্রামের লোকজন তখন দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ির পথ ধরেছে । এমন সময় গ্রামের নতুন লোকের আগমনে কেউ কেউ থমকে দাঁড়ালো ।
কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করলো , কোথা থেকে এসেছেন ?
ক্যাপ্টেন হাসান তাদের নিকট পূর্ণ পরিচয় দিল । গ্রামের লোকজন তাদেরকে মাদবরের কাছে নিয়ে গেলেন । তাদের পরিচয় শুনে মাদবর সাহেব বললেন, আফনেরা এই ভূতদের লগে পারবেন না । আফনেরা শহরের লোক শহরে চইলা যান ।
তখন ক্যাপ্টেন হাসান বললেন , আমরা আপাতত দুইদিন গ্রামে থাকতে চাই । পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে আমরা চলে যাবো ।
অবশেষে মাদবর সাহেব গুরাবা টিমের দুইদিন মেহমানদারীর দায়িত্ব নিলেন । মাদবর সাহেবের বাড়ি ছিল দুই তলা বিশিষ্ট । সাধারণত দো'তলায় কেউ থাকতেন না । গুরাবা টিম থাকার জন্য দো'তলাকেই বেছে নিলেন । এই গ্রামে ইলেকট্রিসিটি তেমন নেই । তাই তারা ঢাকা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন । সন্ধ্যার পরে মাদবর সাহেব বললেন , ঘরের জানালা গুলো আটকায়া রাইখেন । আর রাত আটটার সময় আফনাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হইবো ।
ক্যাপ্টেন হাসান রাতে বাইরে কী ঘটে সেটা দেখার জন্য একটি জানালা হালকা খোলা রাখলেন । সেখানে একটি হাইরেজুলেশন সম্পন্ন নাইট ক্যামেরা বসানো হলো । আর তারা ঘরে বসে ল্যাপটপে দেখতে লাগলেন । প্রায় ২০ মিনিট পর গ্রামের এক জঙ্গল থেকে হালকা একটু আলো বিচ্ছুরিত হতে দেখলেন তারা । তখন ক্যাপ্টেন হাসান সে আলোর দিকে ক্যামেরা জুম করতে লাগলেন । হঠাৎ সেই আলোটা নিভে গেল । তারপরও তিনি জুম করে আলো বিচ্ছুরিত হওয়ার স্থানে নিয়ে গেলেন । ক্যামেরায় নাইট মোড থাকায় সেখানের অবস্থা স্পষ্টরূপে তিনি দেখতে পেলেন । সেখানে কিছু গাছের পাতা পুড়ে ছাই হয়ে আছে । এর পাশে একটি অর্ধেক খাওয়া সিগারেটের একটি টুকরো দেখা যাচ্ছে । এমন সময় দূর থেকে একটি ভয়ঙ্কর আওয়াজ শোনা গেল । তখন ক্যাপ্টেন হাসান ক্যামেরাটি , যেদিক থেকে আওয়াজ এসেছিল সে দিকে ঘুরালেন । কিছুটা জুম করার পর সেখানে একটি বীভৎস আকৃতির মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন । তার চুলগুলো কোমর পর্যন্ত লম্বা । আর চেহারার অর্ধেকটা পোড়া । মুখের তিনটা দাঁত ভয়ঙ্কর আকৃতিতে বেরিয়ে আছে । তাকে দেখতে ভুতের মুভিতে দেখা পিচাশ থেকেও ভয়ঙ্কর দেখা যাচ্ছে ।
পূর্বের পর্বটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন
