সকালের কাকডাকা
ভোরে ক্যাপ্টেন হাসান এবং অন্যান্যরা ঘুম থেকে উঠলেন । রাতে কোনো ভৌতিক কাণ্ড ঘটে নি
। জঙ্গলের মধ্যে তেমন একটা নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না । তাই তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে
কোনো ম্যাপ দেখতে পারছে না । কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই কন্ট্রোল রুম থেকে মেসেজ আসলো
, মাতবরের বড় ছেলে গত রাতে খুন হয়েছে । আর তা মাতবরের সামনেই ঘটে । ক্যাপ্টেন হাসান
বললেন ,যেহেতু আমরা এখন গ্রাম থেকে অনেকদূরে আসছি , তাই আমাদের ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়
। আর এমনও হতে পারে , আমরা তাদের আস্তানার দিকে যাচ্ছি বিধায় তারা গ্রামে এমন কিছু
ঘটাচ্ছে যাতে করে আমরা তাদের আস্তানার দিকে না যাই । তখন কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হলো
, তাহলে এখন আমাদের করণীয় কি ? ক্যাপ্টেন হাসান খানিকটা ভেবে বললেন , তুমি লাশটার কিছুটা
পরীক্ষা করো , দেখো কিছু পাওয়া যায় নাকি ? ক্যাপ্টেন হাসানের সাথের একজন বললো , ক্যাপ্টেন!
মাতবরের সামনে সে খুন হলো কিভাবে ? ক্যাপ্টেন অবাক হয়ে বললেন , আরে , তাই তো । তখনি
কন্ট্রোল রুমে জিজ্ঞাসা করলেন , মাতবরের সামনে তার ছেলে খুন হলো কিভাবে ?
কন্ট্রোল রুম থেকে
সায়েম বললো , গতকাল রাতে তখন নয়টা পয়তাল্লিশ বাজে । আমরা রাতের খাবার খাওয়ার জন্য টেবিলে
বসেছি । ঘরে তেমন কিছু রান্না হয় নি । কারণ প্রধান বাবুর্চি গতকাল এই বাড়ি ছেড়ে চলে
গিয়েছে । তাই অন্যান্য খাদেমরা যতুটুকু পেরেছে , রান্না করেছে । মাতবরের ছেলে খেতে
বসে দেখলো , কিছুই ভালো হয় নাই । তাই সে খাদেমকে বললো লেবু আনতে । খাদেম জানালো ঘরে
লেবু নাই । মাতবরের ছেলে বললো , বাহিরেই তো গাছ আছে , সেখান থেকে নিয়ে এসো । খাদেম
ভয়ে ভয়ে বললো , হুজুর বাহিরে দৈত্য ঘুরাঘুরি করে । আমি পারুম না । তখন সে হেসে বললো
, কি যে ভীতু তোমরা । এই বলে সে নিজেই ঘর থেকে বের হলো । মাতবর সাহেব কয়েকবার নিষেধ
করেছিলেন । কিন্তু সে সেই কথা শুনে নি । লেবু গাছ ঘর থেকে পঞ্চাশ কদম সামনে । সে যখন
লেবু গাছ থেকে কয়েকটা লেবু নিলো তখনি আমরা শুনতে পাই , একটি ভয়ংকর আওয়াজ । মাতবর তখন
গলা চেঁচিয়ে বললেন , ওই মিন্টু , চলে আয় । তখনিই একটা আর্তনাদ শোনা গেল । যেহেতু তার
কাছে টচ লাইট ছিল তাই আমরা প্রথমে খানিকটা
খেয়াল করলাম । লোমশ শরীরের একটা ব্যাক্তি এসে তার ঘাড় ভেঙ্গে দেয় । তাকে দেখতে প্রাচীন
ইয়াতির মতো দেখতে । তখন সবাই ভয়ে কাঁপছিলো । কেউ-ই সামনে যাওয়ার সাহস পাচ্ছিলো না ।
তাই আমি ই গেলাম । যেহেতু আমার সাথে সবসময় আত্মরক্ষার জন্য এসিড থাকে , তাই তখন সেটা
কাজে লেগেছিলে। ।
এই মুহুর্তে ক্যাপ্টেন
হাসান তাকে থামালেন । জিজ্ঞাসা করলেন, তার মানে ওই ইয়াতি তোমার উপরও আক্রমণ করেছে
?
সায়েম বললো , হ্যাঁ
।
ক্যাপ্টেন বললেন,
বিস্তারিত বলো ।
সায়েম বলতে শুরু করলো । আমি যখন সেই ইয়াতির দিকে অগ্রসর হলাম , তখন ও মাতবরের ছেলের প্রাণ ছিল । কিন্তু উক্ত ইয়াতিটা আমাকে হত্যা করতে চাইলো । সে আমার সামনে এসে তার বাম পায়ের বেল্ট থেকে একটি ছুরি বের করলো । যা সাধারণত বায়োনেটে ব্যবহার করা হয়ে থাকে । সে সেটা দিয়ে আমাকে আঘাত করতে চাইলে আমি তৎক্ষণাত সরে গিয়ে তাকে একটা মার্শাল আর্টের লাথি মারলাম । অমনেই সে পড়ে গেল । তারপর সে উঠে আমার আমার দিকে অগ্রসর হলো । তখন আর দেরী না করে আমি তার মুখে এসিড নিক্ষেপ করলাম । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এসিড তার মুখে না লেগে তার হাতে লাগে । অমনি তার হাত জ্বলে যায় । তখন সে আর না দাঁড়িয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় ।
পরবর্তী পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন
আব্দুর রহমান আল হাসান
লেখক

