( গত পর্বের পর )
(৭)
রবিন সকালে স্কুলে আসার পূর্বে পত্রিকা পড়লো। সেখানে একটি সংবাদ সে দেখতে পেল
। গতকাল চট্টগ্রাম শহরে ডাকাতরা হঠাৎ আক্রমণ করে ৫০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। পুলিশ
তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা একটি পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন করে । পুলিশ সেই গুহায়
অভিযান চালালে তাদেরকে খুঁজে যায় নি। ধারণা করা হচ্ছে , তারা অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে চুপিসারে সরে
গিয়েছে। কিন্তু কোথায় গিয়েছে তা এখনো জানা যায় নি। আর মাত্র দুইদিন পরই রবিনরা
খাগড়াচড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে । রবিন মনে মনে একটি রোমাঞ্ন অনুভব করলো । সে
স্কুলে গিয়ে এ বিষয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করলো । বন্ধুরা সকলেই সম্মতি প্রকাশ
করলো । এবার ট্যুরে যাওয়ার পালা ।
স্কুলের সামনে আজ দুইটা বাস দাড়িয়ে আছে । রবিনের বাবা রবিনকে ট্যুরে যাওয়ার
সময় প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কিনে দিয়েছেন । বন্ধুরা সবাই একসাথে বাসে বসেছে ।রবিন
বাসে বসে প্রকৃতি দেখতে লাগলো । কি সুন্দর করে আল্লাহ এই পৃথিবী সাজিয়েছেন । গাছ-গাছালী , গ্রামীন
ঘর-বাড়ী , সবই যেন ছবির মত সুন্দর ।
রবিনের বন্ধু জাফর একটি ক্যামেরা সাথে করে নিয়ে এসেছে । সে কিছুক্ষণ পর পর বিভিন্ন
দৃশ্যের ফটো তুলছে । রবিন ও কয়েকবার ক্ষেতের ছবি তুললো । বাস দীর্ঘ যাত্রার পর এক
স্থানে থামলো । সেখানে সবাই নাস্তা করলো । রবিন কিছুক্ষণ আশ-পাশ
ঘুরে দেখলো । এলাকাটি তার পরিচিত লাগছে । হঠাৎ মনে হলো , ছোটবেলায়
একবার তার বাবা এখানে বদলি হয় । তখন সে এখানের এক স্কুলে ক্লাস ওয়ানে পড়েছিল । এখন
তার তেমন সময় নেই । অন্যথায় সে তার পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা করে আসতো । প্রায় আধ
ঘন্টা বিরতির পর রবিনরা আবার যাত্রা শুরু করলো । স্যার বললেন , আর মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে তারা খাগড়াচড়ি পৌছে যাবে । রবিনরা আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলো , আমরা পাহাড়ের মধ্যে
শুরুতেই অভিযান পরিচালনা করবো না এতে ডাকাতদের চোখে পড়ে যাবো আমরা । আমরা
ঘুরাঘুরিচ্ছলে ডাকাতদের আস্তানা বের করবো ।
(৮)
এই মুহুর্তে রবিনরা খাগঁড়াচড়ি বিখ্যাত ফাইভ স্টার হোটেলে আছে । সেখানকার
পরিবেশটা খুব সুন্দর । হোটেলের সামনের লবিটা অনেক বড় । রবিনদের স্কুল থেকে এই
পিকনিকে দেড়শো ছাত্র-ছাত্রী এসেছে । সবাই সবার মত ঘুরাঘুরি করছে । সবার নিকট ছোট মোবাইল ফোন
আছে । রবিন , আহমাদসহ আরো কয়েকজন এক পাহাড়ে উঠলো । পাহাড়ের
চূড়ায় পৌছাতে তাদের পৌনে এক ঘন্টা সময় লাগলো । তবে খাগঁড়াচড়িতে এর থেকেও আরো বড় বড়
পাহাড় রয়েছে । রবিনরা এত উপরে উঠার পর সকলে হাপিঁয়ে গিয়েছে । তারা সেখানে
বিশ্রামের জন্য সবাই বসে রইলো । তবে বেশিক্ষণ
বসে থাকতে পারলো না । কারণ , মাথার উপর প্রচন্ড রোদ । সবাই
ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরী হলো । পাহাড়ে উঠা যেতটা সহজ , নামা
তার থেকেও অনেক কঠিন । তাদের নামতে এক ঘন্টার বেশি সময় লাগলো । রবিনরা কিছুক্ষণের মধ্যে হোটেলে চলে আসলো ।
অনেকে এখনো আসে নি । হোটেলের লবিতে রবিনদের সাথে প্রিন্সিপ্যাল স্যারের সঙ্গে দেখা
হলো ।
স্যার জিজ্ঞাসা করলেন , সবাই কি এখনো আসে নি ?
রবিন বললো , না স্যার ।
স্যার বললেন , যারা এখনো আসে নি , তাদেরকে ফোন দাও ।
রবিনরা লবিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর হোটেলের কামরায় ফিরে আসলো । সবাই তাদের
অভিজ্ঞতা পরস্পর বলাবলি করছে । প্রায় ২০ মিনিট পর তাদের ক্লাসের অন্যান্যরা ফিরে
আসলো । সবাইকে খুব আতঙ্কিত দেখাচ্ছে ।
আহমাদ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলো , কিরে , তোদের সবাইকে
এমন দেখাচ্ছে কেন ? মনে হয় যেন ভূত দেখেছিস ?
তাদের মধ্য থেকে একজন বললো , হুম রে ভাই , একটা নয় , আটটা। আটটা ভূত দেখেছি ।রবিনরা কিছুই বুঝতে পারছে না । তারা পরস্পর চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো । এরপর রবিন বললো , তোরা কোথায় ভূত
দেখেছিস ?
: পাহাড়ে ।
: পাহাড়ে ভূত আসবে কোথা থেকে ?
: আমরা যখন পাহাড়ে উঠেছিলাম , তখন দেখেছি ।
: কোন পাহাড় সেটা ?
: নীল পাহাড় ।
এভাবে রবিন তাদের থেকে সকল তথ্য জেনে নিলো ।
বিষয়টা রবিন এবং অন্যান্যদের চিন্তিত করে তুললো । রবিন আহমাদকে বললো , নীল পাহাড় তো একেবারে বর্ডারের
সাথে । আমরা এখন বর্ডার থেকে অনেক দূরে আছি । আচ্ছা , কাল
যদি আমরা নীল পাহাড়ের পূর্বপাশে হেলেন পাহাড়ে উঠি , তাহলে
কেমন হয় ?
আহমাদ বললো , আমরা নীল পাহাড়েই যাই ।
: না । আমরা এখন নীল পাহাড়ে গেলে সেই ভূতদের চোখে পড়ে যাবো ।
: তাহলে হেলেন পাহাড়ে তুমি কি করবে ?
: সেখান থেকে আমরা নীল পাহাড়ে নজর রাখতে পারবো । কারণ , এই দিকটা থেকে নজর রাখার জন্য উপযোগী মনে হচ্ছে ।
: কিন্তু পাহাড় তো অনেক উঁচু । পাশাপাশি নীল পাহাড় থেকে নীল পাহাড় কিছুটা
দূরে ।
: অসুবিধা নেই । আমাদের নিকট বায়নোক্যুলার এবং দূরবীন আছে ।
: ওহ্ । তাহলে তো মিশন শুরু করা যায় ।
দ্বিতীয় দিনের মিশনের জন্য রবিন প্রস্তুতি নিতে লাগলো । আহমাদসহ আরো ছয়জন তার
সাথে যাবে । কিন্তু তখনি একটি বিপত্তি ঘটে । ঘটনাটি স্যার জেনে গেলেন । তখনি স্যার
সবাইকে একসাথ করলেন । সব ছাত্র জড়ো হওয়ার পর স্যার বললেন , পাহাড়ে ভূতের উপদ্রবের কথা
আমরা জেনে গিয়েছি । সুতরাং আমরা আর খাগড়াচড়িতে থাকছি না । তোমরা সবাই তৈরী হয়ে নাও ।
আমরা কক্সবাজার যাবো ।
এ কথা শুনে রবিনরা আশাহত হয়ে গেল । তাদের এত প্ল্যান কি তাহলে মাঝপথেই থেমে যাবে ? সে স্যারকে বললো , স্যার ভূতের বিষয়টা তো এখনো শিওর নয় । আমরা আরো দু-একদিন থাকি । তারপর না হয় , কক্সবাজার যাবো । এ কথার পক্ষে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাই স্যারকে বলতে লাগলো । অবশেষে আরো দুইদিন খাগড়াঁচড়ি থাকার কথা বললেন ।
আব্দুর রহমান আল হাসান
লেখক

