নীল পাহাড় অভিযান ৪

নীল পাহাড় অভিযান ৪

( গত পর্বের পর )

()

রবিন সকালে স্কুলে আসার পূর্বে পত্রিকা পড়লো। সেখানে একটি সংবাদ সে দেখতে পেল । গতকাল চট্টগ্রাম শহরে ডাকাতরা হঠাৎ আক্রমণ করে ৫০ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা একটি পাহাড়ের গুহায় আত্মগোপন করে । পুলিশ সেই গুহায় অভিযান চালালে তাদেরকে খুঁজে যায় নিধারণা করা হচ্ছে , তারা অন্য কোনো রাস্তা দিয়ে চুপিসারে সরে গিয়েছে। কিন্তু কোথায় গিয়েছে তা এখনো জানা যায় নি। আর মাত্র দুইদিন পরই রবিনরা খাগড়াচড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে । রবিন মনে মনে একটি রোমাঞ্ন অনুভব করলো । সে স্কুলে গিয়ে এ বিষয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনা করলো । বন্ধুরা সকলেই সম্মতি প্রকাশ করলো । এবার ট্যুরে যাওয়ার পালা ।

স্কুলের সামনে আজ দুইটা বাস দাড়িয়ে আছে । রবিনের বাবা রবিনকে ট্যুরে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কিনে দিয়েছেন । বন্ধুরা সবাই একসাথে বাসে বসেছে ।রবিন বাসে বসে প্রকৃতি দেখতে লাগলো । কি সুন্দর করে আল্লাহ এই পৃথিবী সাজিয়েছেন । গাছ-গাছালী , গ্রামীন ঘর-বাড়ী , সবই যেন ছবির মত সুন্দর । রবিনের বন্ধু জাফর একটি ক্যামেরা সাথে করে নিয়ে এসেছে । সে কিছুক্ষণ পর পর বিভিন্ন দৃশ্যের ফটো তুলছে । রবিন ও কয়েকবার ক্ষেতের ছবি তুললো । বাস দীর্ঘ যাত্রার পর এক স্থানে থামলো । সেখানে সবাই নাস্তা করলো । রবিন কিছুক্ষণ আশ-পাশ ঘুরে দেখলো । এলাকাটি তার পরিচিত লাগছে । হঠাৎ মনে হলো , ছোটবেলায় একবার তার বাবা এখানে বদলি হয় । তখন সে এখানের এক স্কুলে ক্লাস ওয়ানে পড়েছিল । এখন তার তেমন সময় নেই । অন্যথায় সে তার পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা করে আসতো । প্রায় আধ ঘন্টা বিরতির পর রবিনরা আবার যাত্রা শুরু করলো । স্যার বললেন , আর মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে তারা খাগড়াচড়ি পৌছে যাবে । রবিনরা আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলো , আমরা পাহাড়ের মধ্যে শুরুতেই অভিযান পরিচালনা করবো না এতে ডাকাতদের চোখে পড়ে যাবো আমরা । আমরা ঘুরাঘুরিচ্ছলে ডাকাতদের আস্তানা বের করবো ।

()

এই মুহুর্তে রবিনরা খাগঁড়াচড়ি বিখ্যাত ফাইভ স্টার হোটেলে আছে । সেখানকার পরিবেশটা খুব সুন্দর । হোটেলের সামনের লবিটা অনেক বড় । রবিনদের স্কুল থেকে এই পিকনিকে দেড়শো ছাত্র-ছাত্রী এসেছে । সবাই সবার মত ঘুরাঘুরি করছে । সবার নিকট ছোট মোবাইল ফোন আছে । রবিন , আহমাদসহ আরো কয়েকজন এক পাহাড়ে উঠলো । পাহাড়ের চূড়ায় পৌছাতে তাদের পৌনে এক ঘন্টা সময় লাগলো । তবে খাগঁড়াচড়িতে এর থেকেও আরো বড় বড় পাহাড় রয়েছে । রবিনরা এত উপরে উঠার পর সকলে হাপিঁয়ে গিয়েছে । তারা সেখানে বিশ্রামের জন্য সবাই  বসে রইলো । তবে বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারলো না । কারণ , মাথার উপর প্রচন্ড রোদ । সবাই ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরী হলো । পাহাড়ে উঠা যেতটা সহজ , নামা তার থেকেও অনেক কঠিন । তাদের নামতে এক ঘন্টার বেশি সময় লাগলো  । রবিনরা কিছুক্ষণের মধ্যে হোটেলে চলে আসলো । অনেকে এখনো আসে নি । হোটেলের লবিতে রবিনদের সাথে প্রিন্সিপ্যাল স্যারের সঙ্গে দেখা হলো ।

স্যার জিজ্ঞাসা করলেন , সবাই কি এখনো আসে নি ?

রবিন বললো , না স্যার ।

স্যার বললেন , যারা এখনো আসে নি , তাদেরকে ফোন দাও ।

রবিনরা লবিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর হোটেলের কামরায় ফিরে আসলো । সবাই তাদের অভিজ্ঞতা পরস্পর বলাবলি করছে । প্রায় ২০ মিনিট পর তাদের ক্লাসের অন্যান্যরা ‍ফিরে আসলো । সবাইকে খুব আতঙ্কিত দেখাচ্ছে ।

আহমাদ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলো , কিরে , তোদের সবাইকে এমন দেখাচ্ছে কেন ? মনে হয় যেন ভূত দেখেছিস ?

তাদের মধ্য থেকে একজন বললো , হুম রে ভাই , একটা নয় , আটটা। আটটা ভূত দেখেছি ।রবিনরা কিছুই বুঝতে পারছে না । তারা পরস্পর চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলো । এরপর রবিন বললো , তোরা কোথায় ভূত দেখেছিস ?

: পাহাড়ে ।

: পাহাড়ে ভূত আসবে কোথা থেকে ?

: আমরা যখন পাহাড়ে উঠেছিলাম , তখন দেখেছি ।

: কোন পাহাড় সেটা ?

: নীল পাহাড় ।

এভাবে রবিন তাদের থেকে সকল তথ্য জেনে নিলো ।

বিষয়টা রবিন এবং অন্যান্যদের চিন্তিত করে তুললো । রবিন আহমাদকে বললো , নীল পাহাড় তো একেবারে বর্ডারের সাথে । আমরা এখন বর্ডার থেকে অনেক দূরে আছি । আচ্ছা , কাল যদি আমরা নীল পাহাড়ের পূর্বপাশে হেলেন পাহাড়ে উঠি , তাহলে কেমন হয় ?

আহমাদ বললো , আমরা নীল পাহাড়েই যাই ।

: না । আমরা এখন নীল পাহাড়ে গেলে সেই ভূতদের চোখে পড়ে যাবো ।

: তাহলে হেলেন পাহাড়ে তুমি কি করবে ?

: সেখান থেকে আমরা নীল পাহাড়ে নজর রাখতে পারবো । কারণ , এই দিকটা থেকে নজর রাখার জন্য উপযোগী মনে হচ্ছে ।

: কিন্তু পাহাড় তো অনেক উঁচু । পাশাপাশি নীল পাহাড় থেকে নীল পাহাড় কিছুটা দূরে ।

: অসুবিধা নেই । আমাদের নিকট বায়নোক্যুলার এবং দূরবীন আছে ।

: ওহ্ । তাহলে তো মিশন শুরু করা যায় ।

দ্বিতীয় দিনের মিশনের জন্য রবিন প্রস্তুতি নিতে লাগলো । আহমাদসহ আরো ছয়জন তার সাথে যাবে । কিন্তু তখনি একটি বিপত্তি ঘটে । ঘটনাটি স্যার জেনে গেলেন । তখনি স্যার সবাইকে একসাথ করলেন । সব ছাত্র জড়ো হওয়ার পর স্যার বললেন , পাহাড়ে ভূতের উপদ্রবের কথা আমরা জেনে গিয়েছি । সুতরাং ­আমরা আর খাগড়াচড়িতে থাকছি না । তোমরা সবাই তৈরী হয়ে নাও । আমরা কক্সবাজার যাবো ।

এ কথা শুনে রবিনরা আশাহত হয়ে গেল । তাদের এত প্ল্যান কি তাহলে মাঝপথেই থেমে যাবে ? সে স্যারকে বললো , স্যার ভূতের বিষয়টা তো এখনো শিওর নয়আমরা আরো দু-একদিন থাকি । তারপর না হয় , কক্সবাজার যাবো । এ কথার পক্ষে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরাই স্যারকে বলতে লাগলো । অবশেষে আরো দুইদিন খাগড়াঁচড়ি থাকার কথা বললেন ।

( পর্ব ৩ পড়ুুন এখান থেকে )

আব্দুর রহমান আল হাসান

লেখক

#buttons=(আমি সম্মত !) #days=(20)

আসসালামু আলাইকুম, আশা করি আপনি ভালো আছেন। আমার সম্পর্কে আরো জানুনLearn More
Accept !